চীনে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা

চীনে চলতি সপ্তাহে ফিজিক্যাল গোল্ডের (স্বর্ণের বার, মুদ্রা বা গহনা) চাহিদা বেড়েছে।

চীনে চলতি সপ্তাহে ফিজিক্যাল গোল্ডের (স্বর্ণের বার, মুদ্রা বা গহনা) চাহিদা বেড়েছে। কারণ বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় মানুষ আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কিনছে। তবে ভারতীয় ক্রেতারা দাম আরো কমার প্রত্যাশায় এখনো ক্রয় নিম্নমুখী রেখেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীন। দেশটির ডিলাররা প্রতি আউন্সে আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের তুলনায় ৬-১৩ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণ বেচাকেনা করেছেন। আগের সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি আউন্সে ৪ ডলার ছাড় ও ১ ডলার মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণ বেচাকেনা হয়েছিল।

রস নরম্যান নামের এক স্বতন্ত্র বাজার বিশ্লেষক বলেন, ‘বর্তমানে স্বর্ণের বাজারে দ্বিমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। একদিকে অনিশ্চয়তার কারণে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে রেকর্ড দামের কারণে কিছু বাজার অংশগ্রহণকারীদের কাছে চাহিদা কমেছে।’

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাবে বিভিন্ন ঝুঁকির কারণে চলতি বছর বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও স্বর্ণ ক্রয় চালিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের ডিলাররা গত সপ্তাহে সরকারি অভ্যন্তরীণ মূল্যের তুলনায় প্রতি আউন্সে সর্বোচ্চ ২০ ডলার ছাড়ে স্বর্ণ বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে ৬ শতাংশ আমদানি ও ৩ শতাংশ বিক্রি কর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আগের সপ্তাহে দেশটিতে ছাড়ের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৩৩ ডলার পর্যন্ত।

মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি ব্যাংকের বুলিয়ন ডিলার বলেন, ‘দামের ওঠানামা ক্রেতাদের দ্বিধায় ফেলছে। তারা অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার জন্য।’

ভারতে ২০২৫ সালের এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার দেশটির বাজারে প্রতি ১০ গ্রামের দাম ছিল প্রায় ৮৯ হাজার ৭০০ রুপি। মুম্বাইভিত্তিক আরেক ডিলার বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোয় আমদানি কমে যাওয়ায় ছাড়ের পরিমাণও কমে এসেছে।’

হংকংয়ে গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণ আন্তর্জাতিক দামের সমান অথবা সর্বোচ্চ ২ ডলার মূল্য সংযোজন করে বেচাকেনা হয়েছে। এ সময় সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরাও একই পরিমাণ মূল্য সংযোজন করেছেন। এছাড়া জাপানে

আন্তর্জাতিক মূল্যের সমান অথবা ৫০ সেন্ট মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণ বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

টোকিওর এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাম বেড়ে যাওয়ার পর কিছু ক্রেতা মুনাফা আয়ের উদ্দেশ্যে বিক্রি বাড়িয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যহ্রাসের কারণে আবার নতুন ক্রয় শুরু হয়েছে।’

আরও